বর্ষায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা, মশা নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়ার তাগিদ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত, জমে থাকা পানি ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে বাংলাদেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আবহাওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি এডিস মশার বিস্তার বাড়াতে পারে।
বিশেষ করে ঢাকা শহরের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলাতেও ডেঙ্গু পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম যথেষ্ট নয়; জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
কেন বর্ষায় বাড়ে ঝুঁকি
এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। বর্ষাকালে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকার সুযোগ তৈরি হওয়ায় মশার প্রজনন ক্ষেত্রও বাড়তে পারে।
বাড়ির ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেখানে মশার লার্ভা তৈরি হতে পারে।
এ কারণে বিশেষজ্ঞরা শুধু সিটি করপোরেশনের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদেরও নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
ঢাকার বাইরে ঝুঁকি
২০২৬ সালের জুলাইয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, আগস্টে ডেঙ্গু সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে এবং রাজধানীর বাইরের কিছু এলাকায় পরিস্থিতি আরও বেশি উদ্বেগজনক হতে পারে।
এর অর্থ হলো, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু ঢাকার হাসপাতাল বা নগর ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিলেই হবে না। জেলা পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
ডেঙ্গুর বিস্তারের সঙ্গে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। বাংলাদেশের মতো উষ্ণ ও আর্দ্র দেশে আবহাওয়ার পরিবর্তন মশার প্রজনন ও রোগের বিস্তারে প্রভাব ফেলতে পারে।
ফলে ডেঙ্গু মোকাবিলাকে শুধু মৌসুমি সমস্যা হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
হাসপাতাল প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ
সংক্রমণ বেড়ে গেলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ে। তাই আগাম প্রস্তুতি, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা এবং রোগী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে ডেঙ্গু নিয়ে ভুল তথ্য ও আতঙ্ক ছড়ানো থেকেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নাগরিক সচেতনতাই বড় হাতিয়ার
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর একটি হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাসাবাড়ির আশপাশে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলা এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।
শহরের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি নাগরিকদের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।
বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় এখন থেকেই সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়া গেলে বড় ধরনের সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব হতে পারে। স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিক—সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।