
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কলাবাড়ী খালপাড়ার চিহ্নিত মাদক কারবারি শাহীন-ফুলি দম্পতিকে ঘিরে জনমনে ফের তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও সংবাদ প্রকাশ ও প্রশাসনের অভিযানের মুখে গা-ঢাকা দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখলেও হঠাৎ করেই তারা আবারও প্রকাশ্যে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এখন আর গোপনে নয়—প্রতিদিন বিকাল হলেই তাদের বাড়ির সামনেই বসছে ইয়াবা বিক্রির এক ভয়ঙ্কর ‘ওপেন হাট’।স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত ১০-১৫ দিন আগে সংবাদপত্রে এই দম্পতির মাদক ব্যবসার ওপর ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসনের নড়াচড়া শুরু হয়। পুলিশের তৎপরতায় প্রায় ১-২ সপ্তাহ ধরে তাদের মাদক ব্যবসা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে গত ৩-৪ দিন ধরে আবারও পুরোদমে শুরু হয়েছে ইয়াবা বিক্রি।এখন পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাদের বাড়ির সামনে মাদকসেবী ও ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে—যেন কোনো হাটবাজারে মানুষের ভিড়।এলাকাবাসীর অভিযোগ, শাহীন পেশায় ভ্যানচালক হলেও দীর্ঘদিন ধরেই ভ্যানকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে ইয়াবা পরিবহন করে আসছে। তার স্ত্রী ফুলি খাতুন পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের অধীনে কয়েকজন সক্রিয় সদস্য বিভিন্ন গ্রামে ইয়াবা সরবরাহ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—একটি মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একের পর এক সংবাদ প্রকাশ, পুলিশি অভিযান ও জনঅসন্তোষের পরও কীভাবে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে? কারা তাদের ছত্রছায়া দিচ্ছে? কোথা থেকে পাচ্ছে এই সাহস?নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “আগে লুকিয়ে ব্যবসা করত, এখন প্রকাশ্যে করছে।বিকাল হলেই মাদকসেবীদের আনাগোনায় পুরো এলাকা অশান্ত হয়ে ওঠে। কেউ প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি দেখানো হয়।”তাদের দাবি, শুধু মাদক বিক্রিই নয়—এই দম্পতির বিরুদ্ধে রয়েছে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো, স্থানীয়দের হুমকি দেওয়া এবং সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ করার অভিযোগও। এর আগেও সংবাদ প্রকাশের পর ফুলি খাতুন প্রকাশ্যে দম্ভোক্তি করে বলেছিলেন, “আমার কিছুই করতে পারবে না, টাকা দিয়েই সব ম্যানেজ করা হয়।”এমন বক্তব্যের পর থেকেই জনমনে আরও বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি দম্পতির ক্ষমতার উৎস কোথায়? কোন শক্তির ভরসায় তারা বারবার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে?স্থানীয় অভিভাবকরা বলছেন, সীমান্তবর্তী এই এলাকায় ইয়াবার সহজ বিস্তার ইতোমধ্যেই যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণদের একটি অংশও ধীরে ধীরে এই ভয়াল নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, শুধু খুচরা কারবারি নয়—এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদেরও আইনের আওতায় এনে পুরো নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে হবে।সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে শাহীন-ফুলি দম্পতির বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর অভিযান চালানোর দাবি এখন সর্বস্তরের মানুষের।দামুড়হুদার কলাবাড়ীতে আবারও প্রকাশ্যে শাহীন-ফুলির ইয়াবা সাম্রোজ্য; প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে কার ছত্রছায়ায় এই কারবার?