HomeUncategorizedসফর মাসের ফজিলত ও আমল

সফর মাসের ফজিলত ও আমল

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেছেন এবং আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে—এমন কি আমাদের শ্রবণ, দর্শন ও বাকশক্তির ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি সৃষ্টিজগৎ ও মানবজাতির স্রষ্টা। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা, আমাদের নবী ও আমাদের অভিভাবক মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, আল্লাহর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং পুণ্যবান ও মহান সাহাবিদের ওপর।নিশ্চয়ই ইসলাম জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। জীবনের এমন কোনো ক্ষেত্র বা শাখা নেই, যার জন্য ইসলাম কোনো বিধান ও শরিয়ত প্রদান করেনি। আর এগুলোই আল্লাহর নির্ধারিত সীমানা, যা তিনি তাঁর কিতাবে সেই সম্প্রদায়ের জন্য বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন যারা অনুধাবন করে। আর যারা পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলামে প্রবেশ করবে, তারাই প্রকৃত ও পরিপূর্ণ মুসলিম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।’জেনে রাখুন, যে ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলামে প্রবেশ করবে এবং আল্লাহর সমস্ত আদেশ মেনে চলবে ও সমস্ত নিষেধ বর্জন করবে, তার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের ওপর রয়েছে এবং তারাই সফলকাম।’আল্লাহ তাআলা আমাদের মধ্যে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ কিছু শক্তি আমানত রেখেছেন; যেমন—শ্রবণশক্তি, দর্শনশক্তি, চিন্তাশক্তি ও বাকশক্তি। আর এসব শক্তি সংযত ও নিয়ন্ত্রিত রাখার দায়িত্বও আমাদের দিয়েছেন। আমাদের দায়িত্ব নিজেদের জিহ্বাকে মিথ্যা, পরনিন্দা, অনর্থক কথাবার্তা এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ বিষয় থেকে রক্ষা করা; চোখকে কুদৃষ্টি বা অশোভন দৃশ্য দেখা থেকে বিরত রাখা; কানকে নিষিদ্ধ কথাবার্তা বা আওয়াজ শোনা থেকে হেফাজত করা এবং অন্তরের চিন্তাভাবনাকে নিষিদ্ধ বিষয় থেকে দূরে রাখা।হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘তোমাদের কারও কাছে শয়তান এসে বলতে থাকে, এটি কে সৃষ্টি করেছে? ওটি কে সৃষ্টি করেছে? একপর্যায়ে সে বলে, তোমার রবকে কে সৃষ্টি করেছে? যখন কেউ এই পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন সে যেন আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায় (আউযুবিল্লাহ পড়ে) এবং সেই চিন্তা থেকে বিরত থাকে।’ অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘সে যেন বলে, আমি আল্লাহর ওপর ইমান এনেছি।’ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন, ‘প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।’বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্বন্ধে চিন্তা করে (এবং বলে) হে আমাদের রব! আপনি এগুলো নিরর্থক সৃষ্টি করেননি, আপনি অত্যন্ত পবিত্র; সুতরাং আপনি আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।’মহান আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের জন্য এই মহিমান্বিত কোরআনের মাধ্যমে বরকত দান করুন এবং এর আয়াত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ জিকিরের মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন। আমি আমার এই বক্তব্য শেষ করছি এবং নিজের জন্য, আপনাদের জন্য ও সমস্ত মুসলমানের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারাও তাঁর কাছে ক্ষমা চান, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়াময়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments